তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের মক্কা চুক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব হিসেবে অভিহিত করেছেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। তার মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশের সহযোগিতা আরও বাড়বে এবং আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা জোরদার হবে।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, গত শুক্রবার মক্কায় ত্রিপক্ষীয় সম্মেলনে চুক্তিটিতে সই করে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জেদ্দায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সালমান বলেন, এই চুক্তি আঞ্চলিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এ তথ্য জানিয়েছে।
বাদশাহ সালমান বলেন, ত্রিপক্ষীয় এই সম্মেলনের মাধ্যমে তিন দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। পাশাপাশি, সম্মেলনে তিন দেশের ‘অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থ’ এগিয়ে নেয়ার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার মক্কায় অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় সম্মেলনে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির আওতায় তিন দেশ যৌথ নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং অঞ্চল ও এর বাইরের শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।
মূলত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিটি এক বছর আগে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আরও দেশ এই চুক্তির অংশ হতে পারে। এতে এটি সম্মিলিত নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
চুক্তির মূল বিষয় হলো— তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের; এই তিন দেশের যেকোনও একটির ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিষয়টি অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো। তবে এর বিস্তারিত কাঠামো এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি।

