ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে বসতিগুলোর নির্মাণ, অবকাঠামো ও অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং দখলদারিত্বে সরাসরি ভূমিকা রাখছে এমন অস্ত্র বিক্রিতেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটি।
যুক্তরাজ্যের এই কঠোর অবস্থানে ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে তথা তলানিতে পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তে ইসরায়েলের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে দিচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মূলত ব্রিটেনই ইসরায়েলের সবচেয়ে বেশি ক্ষোভের মুখে পড়েছে। তবে ফ্রান্স, স্পেন ও কানাডাসহ মোট ১২টি দেশ একই সঙ্গে এই পদক্ষেপ নেয়ায় ইসরায়েলের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
লন্ডনের কর্মকর্তারা অবশ্য আগে থেকেই জানতেন যে ইসরায়েলের প্রতি নীতিতে এমন বড় পরিবর্তন হলে তেলআবিবের কাছ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া আসবে। তবে ইসরায়েল যেভাবে দ্রুত ও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তাতে তারা কিছুটা বিস্মিত হয়েছেন বলে মনে হয়েছে।
পশ্চিম তীরের সঙ্গে যোগাযোগ এবং রামাল্লায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করা পূর্ব জেরুজালেমের ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে গত বছর গাজায় ত্রাণ ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর কাজ সমন্বয়ের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক গাজা সহায়তা কেন্দ্র থেকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদেরও সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপ যুক্তরাজ্যের নেয়া সিদ্ধান্তের কঠোর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এসব পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায়, ব্রিটেনসহ ১২টি দেশের নেয়া সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ইসরায়েল গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাজ্য ছাড়া অন্য ১১টি দেশের মধ্যে ফ্রান্স, স্পেন ও কানাডার মতো দেশও রয়েছে।

