ক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি’ (ইসলামাবাদ এমওইউ) থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইরান। তেহরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের পক্ষ হতে গত মঙ্গলবার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আসন্ন আগ্রাসন’ প্রতিহত করতেই ইরান এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ঘারিবাবাদি স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন যে, “হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার ইরান যে কোনো মূল্যে রক্ষা করবে। এর সঙ্গে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার ব্যাপারটি সরাসরি জড়িত। আমরা আর কোনো ইস্যুতে কখনও যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে আলোচনার জন্য অনুরোধ করব না।” মূলত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এখন তেহরানের জন্য প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৭ জুন ট্রাম্প এবং পেজেশকিয়ান প্রশাসনের মধ্যে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির মূল শর্ত ছিল ইরান কর্তৃক জাহাজ হামলা বন্ধ এবং বিনিময়ে ওয়াশিংটন কর্তৃক তেল রপ্তানির ওপর হতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
তবে ৫ জুলাই আরব আমিরাতের জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি পুনরায় সংঘাতের দিকে মোড় নেয়। এর জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে। সংকটের মাত্রা আরও তীব্র হয় যখন গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় অবরোধ জারির নির্দেশ দেন এবং ঘোষণা করেন যে, এখন হতে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’ হিসেবে কাজ করবে। এমনকি এই জলপথ ব্যবহারের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ২০ শতাংশ হারে টোল প্রদানের নির্দেশ দেন ট্রাম্প, যা ইরানকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।
ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরান সমঝোতা চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে মার্কিন সেন্টকমের মুখপাত্র অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন যে, অবরোধ জারির পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অনড় অবস্থানে বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি এখন এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

