আগে কারিগরি ত্রুটির জন্য ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) জিএসএলভি রকেটকে ‘দুষ্টু ছেলে’ বলা হলেও বর্তমানে এটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি বাহন। এই রকেটের মাধ্যমেই দেশটির নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা ‘ন্যাভিক’-কে আরও শক্তিশালী করতে সফলভাবে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে নতুন স্যাটেলাইট ‘এনভিএস-০৩’।
এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা কেন্দ্র থেকে জিএসএলভি-এফ১৮ রকেটের সাহায্যে উপগ্রহটি উৎক্ষেপণ করা হয়। স্যাটেলাইটটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে সফলভাবে স্থাপন করার পর ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন উল্লেখ করেন, এর মাধ্যমে ভারত নিখুঁত সময় ও দিকনির্দেশনা প্রযুক্তির আরও নিকটবর্তী হলো।
এদিকে ইসরোর বিজ্ঞানীদের এই সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মূলত ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভারত নিজেদের একটি স্বাধীন নেভিগেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করে, যা পরবর্তীতে ‘ন্যাভিক’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। দেশের ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত নিখুঁত অবস্থান ও সময়ের তথ্য প্রদানে সক্ষম এই ব্যবস্থা। তবে অতীতে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানামুখী প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছিল।
বিশেষ করে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পারমাণবিক ঘড়িতে ত্রুটি ধরা পড়ায় কয়েকটি উপগ্রহ অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। সেই জটিলতা দূর করতে ‘এনভিএস-০৩’ উপগ্রহটিতে এবার সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত পারমাণবিক ঘড়ি সংযোজন করা হয়েছে, যা প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে দেশকে আরও এগিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি এতে বহুল ব্যবহৃত ‘এল ওয়ান’ সিগন্যাল যুক্ত থাকার কারণে আগামী দিনে সাধারণ নাগরিকদের স্মার্টফোন ব্যবহার, বিমান চলাচল এবং পরিবহন খাতের কার্যক্রমে এটি সহজে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকদের অভিমত, এককভাবে পুরো নেটওয়ার্কের সব ত্রুটি সংশোধন করা সম্ভব না হলেও নিজস্ব ও স্বাধীন নেভিগেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দীর্ঘ যাত্রায় ‘এনভিএস-০৩’ একটি ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক।

