প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় অল্প সময়ের মধ্যে ভূমি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, যারা ভালো কাজ করছেন, তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। অন্যায় ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ভূমিমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যদেরও নিজ নিজ এলাকায় ভূমি-সংক্রান্ত কার্যক্রমের বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ভূমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ আসে। ভাইয়ে-ভাইয়ে, ভাই-বোনে কিংবা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের সমস্যা। এসব সমস্যা সমাধানে ভূমি ব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করা প্রয়োজন। জমির মালিকানা, হস্তান্তর এবং ক্রয়-বিক্রয়ের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আইনগত উদ্যোগের মাধ্যমেও অনিয়ম বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং সেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। সারা দেশে ভূমি ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর নাগরিকদের আস্থা অর্জনে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের সব নাগরিকের সম্মান সবার আগে। মন্ত্রণালয়ের স্বয়ংক্রিয় সেবাগুলো চালুর মাধ্যমে নাগরিকদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সেবার মান যাচাই করতে আমি ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী নিজেরাই বিভিন্ন সময়ে ফোন করে সেবা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছি।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা ছিল—বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক যেন নির্বিঘ্নে ভূমিসেবা নিতে পারেন এবং এ জন্য কোনো ধরনের জটিল প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে যেতে না হয়। শুরু থেকেই আমাদের প্রচেষ্টা ভূমিসেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে যতটা সম্ভব সহজ করা, আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নাগরিকদের জন্য সেবাকে সহজলভ্য করে তোলা। এ কারণে আমরা সারা দেশে প্রায় এক হাজারের মতো ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু করেছি। এসব কেন্দ্র থেকে সামান্য নির্ধারিত ফি দিয়ে বিভিন্ন সেবা নেওয়া যায়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দুটি সেবা কেন্দ্র রয়েছে। প্রথম কেন্দ্রটির কার্যক্রম ভালোভাবে চলতে দেখে আমরা চিন্তা করি, ঢাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কার্যক্রম যেখানে বেশি পরিচালিত হয়, সেখানে আরেকটি কেন্দ্র চালু করা প্রয়োজন। সে পরিকল্পনা থেকেই দ্বিতীয় নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। ভূমিমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, খুব অল্প সময়ের মধ্যে, প্রায় দুই মাসের মধ্যেই আমরা এটি চালু করতে পেরেছি। আমি বিশ্বাস করি, আজ থেকেই এখান থেকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। ভূমিসেবার জন্য যেসব স্বয়ংক্রিয় সেবা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, সেগুলো নাগরিকেরা এখানে বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন। একই সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা ভূমি-সংক্রান্ত জটিল বিষয়ে প্রাথমিক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করবেন। এ ছাড়া প্রতিটি জেলায় নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র চালুর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এ কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। আশা করছি, অতি দ্রুত দেশের প্রতিটি জেলায় সরকারি পরিসরে এসব সেবা কেন্দ্র চালু করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর প্রমুখ।

