ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের উত্তাপ যেন বেড়েই চলেছে। এর থেকে রেহাই পায়নি এশিয়া কাপও। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই চিরপ্রতিদ্বন্দী দুই দেশের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। ফাইনালেও থেমে থাকেনি এর রেশ। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও, নিজেদের মেডেল বা ট্রফি না নিয়েই মাঠ ছেড়ে রাজনৈতিক বৈরিতার উত্তাপকে বাড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটাররা।
এশিয়া কাপের ৪১ বছরের ইতিহাসে গতকাল রাতে প্রথম ফাইনালে মুখোমুখি হয় ভারত-পাকিস্তান। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দর্শকদের দারুণ এক ফাইনাল উপহার দিয়ে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে আবারও শিরোপা জিতে নেয় ভারত। এ নিয়ে নবমবারের মতো এশিয়া কাপের শিরোপা জিতল ম্যান ইন ব্লুরা।
তবে, পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে শুরু হয় আসল নাটকীয়তা। ফাইনালে ম্যাচ সেরার পুরস্কার নেন তিলক ভার্মা। টুর্নামেন্ট সেরার স্বীকৃতি গ্রহণ করেন অভিষেক শর্মা। এছাড়া কুলদিপ যাদবের হাতে ওঠে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির পুরস্কার। এই তিনটি ব্যক্তিগত পুরস্কার তারা অন্যান্য অতিথিদের কাছে থেকে গ্রহণ করলেও পাকিস্তানি কর্মকর্তা মহসিন নাকভিকে উপেক্ষা করেন।
নাটকীয়তা চরমে পৌঁছায় পুরস্কার বিতরণীর শেষ পর্যায়ে এসে। ব্যক্তিগত পুরস্কার দেয়ার পর ভারতীয় দলকে মেডেল ও ট্রফি দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তখনই মঞ্চ থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করেন নাকভি। তার সঙ্গে একে একে নেমে যান অতিথিরাও। কারণ, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান হওয়ায় নাকভির হাত থেকে পুরস্কার নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে চ্যাম্পিয়ন ভারতীয় দল।
তবে, ট্রফি গ্রহণ না করলেও, ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা ট্রফি ছাড়াই নিজেদের মতো করে উদযাপন করেন এবং মাঠের ফটোগ্রাফারদের জন্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ছবিও তোলেন।
এদিকে, বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ শাইকিয়া এএনআইকে বলেছেন, মহসিন নাকভি পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা হওয়ায় তার কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণে অনিচ্ছুক ভারত। তবে এর মানে এই নয় যে, ট্রফি ও পদকগুলো পাকিস্তানের সঙ্গে থেকে যাবে। দ্রুতই ট্রফি ও পদকগুলো ভারতের হাতে তুলে দেয়া হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বিসিসিআই সচিব। অন্যদিকে, আইসিসির আগামী নভেম্বরে দুবাই সম্মেলনে এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানাবে পাকিস্তান।

