সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মহাসমাবেশ চলছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এ মহাসমাবেশ শুরু হয়। এতে সারাদেশ থেকে আসা বিপুলসংখ্যক শিক্ষক অংশ নিয়েছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, দাবি আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করলেও সমাধান না পাওয়ায় আবারও আজ রাজপথে নেমেছেন তারা। সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন প্রদান, পদোন্নতির সুযোগ নিশ্চিত করা এবং মর্যাদা রক্ষায় আলাদা আইন প্রণয়ন করতে হবে। দ্রুত দাবি না মানলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষক নেতারা।
সমাবেশে শিক্ষকদের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কার জুনায়েদ সাকিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা। এ সময় জোনায়েদ সাকি বলেন, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি পূরণ ছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়।
শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে যান। তাদের দাবি কার্যকর না হলে বিকেলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানানো হবে।
তিন দফা দাবি আদায়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রাথমিকের শিক্ষকরা আন্দোলন করে আসছেন। চলতি বছরের ৫ মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সারা দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সব কর্মদিবসে এক ঘণ্টা করে কর্মবিরতি শুরু করেন তারা। এরপর ১৭ মে থেকে দুই ঘণ্টা এবং ২১ মে থেকে ২৫ মে পর্যন্ত আধাবেলা কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকরা।
২৬ মে থেকে অনির্দিষ্টকালেরর কর্মবিরতি শুরু করেন তারা। টানা চারদিন কর্মবিরতির পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার আশ্বাসে ১ জুন থেকে ক্লাসে ফিরে যান। আশ্বাসের তিনমাস পেরিয়ে গেলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় আবারও রাজপথে নামছেন প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা।
অন্যদিকে, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, পদোন্নতিসহ চার দফা দাবিতে গত ১৮ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি’। সমাবেশ থেকে দাবি আদায়ে সরকারকে আলটিমেটাম দেয়া হয়।