যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির অকাল প্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা দুজন প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন এবং খুব শীঘ্রই বিয়ের পিঁড়িতে বসার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে সেই স্বপ্ন চিরতরে বিলীন হয়ে গেল।
নিহত লিমনের বড় ভাই জুবায়ের আহমেদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, জামিল ও বৃষ্টি একে অপরের সঙ্গে বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। বাংলাদেশে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় লিমন সবসময় বৃষ্টির প্রশংসা করতেন। বৃষ্টিকে তিনি খুব প্রতিভাবান মনে করতেন—যিনি একইসঙ্গে চমৎকার গান গাইতেন এবং রান্নাও জানতেন। লিমনের কাছে বৃষ্টি ছিলেন একজন গুণী মানুষ।
লিমনের পরিবার জানিয়েছে, লিমন ছিল অত্যন্ত ভদ্র ও হাসিখুশি একজন মানুষ। গত দুই বছর ধরে তিনি দক্ষিণ ফ্লোরিডার সংকুচিত জলাভূমি নিয়ে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে গবেষণা করছিলেন। পিএইচডি শেষ করে দেশে ফিরে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করাই ছিল তার বড় স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
এদিকে, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। তিনি লিখেছেন, ‘আমার বোন আর আমাদের সঙ্গে নেই।’ বিবিসি বাংলাকে জাহিদ জানিয়েছেন, মার্কিন পুলিশ তাকে ফোন করে এই দুঃসংবাদ দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাসার ভেতরে একটি মরদেহের অবশিষ্টাংশের সঙ্গে বৃষ্টির ডিএনএ মিলেছে। তবে পুরোপুরি মরদেহ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন এই দুই শিক্ষার্থী। প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর শুক্রবার জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকা থেকে তার ক্ষতবিক্ষত দেহ পাওয়া যায়। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিখোঁজ নাহিদাকে খুঁজে পেতে এখনো তৎপরতা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু ও এর আশেপাশের পানিতে ডুবুরি দল এখনো তল্লাশি চালাচ্ছে।

