দেশে প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার (১২ মে) অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বাজেট-সংশ্লিষ্ট বৈঠকে এ প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়। বর্তমানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, জিপ, বাস, ট্রাক ও পিকআপে অগ্রিম আয়কর থাকলেও মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এতদিন এর বাইরে ছিল। এখন এই দুই খাতকে করজালের আওতায় আনার মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল: করমুক্ত, ১১১–১২৫ সিসি: বছরে ২,০০০ টাকা, ১২৬–১৬৫ সিসি: বছরে ৫,০০০ টাকা,১৬৫ সিসির বেশি: বছরে ১০,০০০ টাকা অগ্রিম আয়কর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৯ লাখ মোটরসাইকেল নিবন্ধিত রয়েছে। এর বড় অংশই ১১০ সিসির বেশি হওয়ায় নতুন কর চালু হলে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আসার সম্ভাবনা দেখছে সরকার। প্রাথমিক হিসেবে গড়ে প্রতিটি মোটরসাইকেল থেকে ৪ হাজার টাকা কর আদায় হলে বছরে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি আয় হতে পারে।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রেও প্রথমবারের মতো অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায়: বছরে ৫,০০০ টাকা, পৌরসভা এলাকায়: বছরে ২,০০০ টাকা ,ইউনিয়ন পর্যায়ে: বছরে ১,০০০ টাকা।
এছাড়া সরকার ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’-এর খসড়া তৈরি করেছে। সেখানে নিবন্ধন, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ট্যাক্স টোকেন বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কর আরোপের বিধানও যুক্ত থাকবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, এসব যানবাহনের নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও নতুন নীতিমালার আওতায় আরও কড়াকড়ি করা হতে পারে।
মোটরসাইকেল শিল্প সংশ্লিষ্টরা নতুন কর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই খাতে বিপুল বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। নতুন কর আরোপ হলে রাইড শেয়ারিং, ডেলিভারি সেবা এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে।
এনবিআর জানিয়েছে, অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করা হলেও যানবাহনের মালিকরা পরবর্তীতে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এই কর সমন্বয়ের সুযোগ পাবেন। আগামী বাজেট ঘোষণার সময় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।

