পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল বা মাশুল আরোপের অনুমতি পাবে বলে জানা গেছে।
মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এ তথ্য জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাতে এপি জানিয়েছে, ইরান এই অর্থ তার পুনর্গঠনের কাজে ব্যবহার করবে। খবর আল জাজিরা’র।
তবে ওমান তাদের প্রাপ্ত অর্থ কীভাবে ব্যবহার করবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত সরাসরি আলোচনায় সম্পৃক্ত ছিলেন ওই কর্মকর্তা। তবে অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বক্তব্য দেন তিনি।
ইরান ও ওমান দুই দেশেরই হরমুজ প্রণালীর ওপর আঞ্চলিক অধিকার রয়েছে।
এর আগে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করা হলে ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে বলে ঘোষণা দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বলেন, যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি ‘দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ চলাচল (জাহাজ) সম্ভব হবে।’
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি বাস্তবায়ন করা হবে ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাগুলো বিবেচনায় রেখে।’
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ‘বিশেষ অনুরোধ’ গ্রহণ করে ইরানে ‘বড় ধরনের হামলা’ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে রাজি হওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালী জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার শর্তে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কিছু সময় আগে ট্রাম্পের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের ‘বিশেষ অনুরোধে’ ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত ‘বিধ্বংসী হামলা’ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিতে রাজি হয়েছেন তিনি।

