টানা চার বছর কোমায় থাকার পর অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন থাইল্যান্ডের প্রভাবশালী রাজকন্যা বাজরাকিতিইয়াভা। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে ৪৭ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
থাই রাজপ্রাসাদের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, বর্তমান থাই রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের সাত সন্তানের মধ্যে বাজরাকিতিইয়াভাই ছিলেন সবচেয়ে বড় এবং রাজসিংহাসনের অন্যতম প্রধান ও সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী। শুক্রবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে ব্যাংককের চুলালংকর্ন মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এক প্রদেশে কুকুরের প্রশিক্ষণ প্রতিযোগিতার জন্য নিজের পোষা কুকুরকে নিয়ে ব্যায়াম করার সময় হঠাৎ করেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রাজকন্যা বাজরাকিতিইয়াভা। সে সময় চিকিৎসকরা জানান, ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে তার হৃদযন্ত্রে তীব্র প্রদাহ তৈরি হয় এবং অনিয়মিত হার্টবিটের ফলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর থেকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে লাইফ সাপোর্টে রেখে কৃত্রিম উপায়ে তার হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ও কিডনি সচল রাখা হয়েছিল।
পেশায় আইনবিদ রাজকন্যা বাজরাকিতিইয়াভা থাই জনগণের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য এক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি থাইল্যান্ডের হয়ে জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। তার এই অকালমৃত্যুর মধ্য দিয়ে থাই রাজপরিবার তাদের সবচেয়ে যোগ্য ও সম্ভাব্য উত্তরাধিকারীকে হারালো, যা দেশটির রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার নির্ধারণে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করলো।

