ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, চলমান ‘অবৈধ যুদ্ধ’ বন্ধে তেহরানের প্রধান লক্ষ্য হলো একটি ‘চূড়ান্ত ও স্থায়ী’ সমাধানের শর্ত নিশ্চিত করা। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু গণমাধ্যম ইরানের অবস্থান ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, পাকিস্তানের প্রতি ইরান কৃতজ্ঞ এবং ইসলামাবাদ সফর প্রত্যাখ্যানের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি লিখেছেন, আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই শর্তগুলো, যা এই চাপিয়ে দেওয়া অবৈধ যুদ্ধের একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী সমাপ্তি নিশ্চিত করবে। এদিকে ইরান কর্তৃপক্ষ হরমুজ প্রণালি দিয়ে মানবিক সহায়তা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।
দেশটির বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, এই অনুমতি বিশেষভাবে সেইসব জাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেগুলো ইরানের বন্দর কিংবা ওমান সাগর অঞ্চলের গন্তব্যে যাচ্ছে। অন্যদিকে, অস্ট্রিয়ায় ইরানের দূতাবাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাসের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে আলোচনায় কাল্লাস হরমুজ প্রণালিতে ‘টোলমুক্ত নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা’ পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে জরুরি বলে উল্লেখ করেন এবং নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ার জন্য ইরানের হামলাকে দায়ী করেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় ভিয়েনায় ইরানের দূতাবাস একাধিক পোস্টে কাল্লাসের বক্তব্যকে ‘ভণ্ডামি’ আখ্যা দিয়ে দাবি করে, তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের ‘আগ্রাসী হামলাকে’ উপেক্ষা করছেন, অথচ তেহরানের ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের’ সমালোচনা করছেন।
দূতাবাস আরও প্রশ্ন তোলে, কাল্লাস জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশন মেনে চলার আহ্বান জানালেও ইরান ওই চুক্তির সদস্য নয়। এছাড়া তারা দাবি করে, ইরান পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি মেনে চলেছে, তবুও তাদের ‘শান্তিপূর্ণ ও তদারকিকৃত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো’ হামলার শিকার হয়েছে।
দূতাবাসের বক্তব্যে আরও বলা হয়, কাল্লাসের আশপাশে থাকা উপদেষ্টারা বাস্তবতা বিবেচনায় ব্যর্থ হচ্ছেন এবং তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন।

