মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাবে তিনি সন্তুষ্ট নন। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা এখনও অচলাবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১ মে) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এই মুহূর্তে তারা যা প্রস্তাব দিয়েছে তাতে আমি সন্তুষ্ট নই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে ‘গভীর মতপার্থক্য’ থাকায় আলোচনা এগোচ্ছে না। খবর এএফপির।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ ৮ এপ্রিল থেকে কার্যত স্থগিত রয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি আলোচনার একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, আমরা কি তাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালিয়ে সব শেষ করে দেব, নাকি সমঝোতায় যাব? তবে তিনি মানবিক কারণে সামরিক বিকল্পে যেতে চান না বলেও উল্লেখ করেন।
ইরান এখনও হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। ফলে তেল, গ্যাস ও সার সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর পাল্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্থির রয়েছে এবং যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় এখনও অনেক বেশি।
এদিকে জার্মানি থেকে প্রায় ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সমালোচনা করার পর এই সিদ্ধান্ত আসে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আপাতত থেমে আছে, অঞ্চলজুড়ে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের কাছে বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে কাতারের জন্য ৪ বিলিয়ন ডলারের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি এবং ইসরায়েলের জন্য প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের নির্ভুল অস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে।
যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতি চাপে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে দেশটির প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের তেল রপ্তানি বন্ধ হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৫০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রেও ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই যুদ্ধ চালানোর বিষয়ে বিতর্ক চলছে, পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে।
সবমিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এখন এক অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় যুদ্ধ থেমে থাকলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো স্পষ্ট পথ এখনও দেখা যাচ্ছে না।

