ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে তেহরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। একইসঙ্গে দুই দেশের বিদ্যমান সংকট নিরসনে চীনের যেকোনো মধ্যস্থতা বা কূটনৈতিক সহায়তাকে ইরান স্বাগত জানাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শুক্রবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান। আব্বাস আরাকচি বলেন, ‘আমরা আবারও মার্কিনিদের কাছ থেকে বার্তা পেয়েছি যে তারা আলোচনা এবং পারস্পরিক যোগাযোগ চালিয়ে যেতে চায়।’
নয়াদিল্লি থেকে এএফপি জানায়, আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার দাবি করেছেন যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং ইরানের যুদ্ধের সময় সামরিক সহায়তা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা যেকোনো দেশের সহায়তাকে স্বাগত জানাই, বিশেষ করে চীনকে।’ আরাকচি আরও বলেন, চীনের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। তাই চীন যদি কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে, সেটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান স্বাগত জানাবে। চীন বলেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাত বন্ধে তারা শুরু থেকেই কাজ করছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সংঘাত অব্যাহত থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং দ্রুত সমাধান খোঁজা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্বার্থেও জরুরি। এদিকে আরাকচি জানান, পাকিস্তান এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় ভূমিকা পালন করছে, তবে প্রথম দফা আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া পুরোপুরি ব্যর্থ হয়নি, তবে এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ এবং দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান অবিশ্বাসের কারণে এখন কঠিন পর্যায়ে রয়েছে।’

