যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে আজ মঙ্গলবার দেশজুড়ে ভোট গ্রহণ চলছে। এই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে, নাকি দুই বছর পর আবারও ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যাবে। সর্বশেষ জনমত জরিপে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার আভাস মিলেছে। এমনকি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের জায়গা অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়। মূল্যস্ফীতির হার আগের তুলনায় কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম এখনো অনেক বেশি।
জ্বালানি, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিল থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁয় খাবারের খরচ-সব ক্ষেত্রেই বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলাতে হচ্ছে সাধারণ মার্কিন পরিবারগুলোকে। এ পরিস্থিতির জন্য অনেক ভোটার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করছেন। বিশেষ করে শুল্কনীতি ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ মূল্যস্ফীতির চাপ দীর্ঘস্থায়ী করছে বলে তাদের ধারণা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ থাকলেও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে ইতিবাচক চিত্র রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ, যা ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি। কর্মসংস্থানে যুক্ত মানুষের সংখ্যাও রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে। গত প্রান্তিকে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল বার্ষিক হিসাবে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ শেয়ারবাজারের উত্থানে ভূমিকা রেখেছে। এতে অনেক মার্কিন নাগরিকের অবসরকালীন সঞ্চয়ের পরিমাণও বেড়েছে। তবে এসব ইতিবাচক সূচক সাধারণ মানুষের অসন্তোষ দূর করতে পারছে না। কয়েক বছর আগের তুলনায় মূল্যস্ফীতির হার কমলেও পণ্য ও সেবার দাম এখনো বেশি। ফলে দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ অনুভব করছেন পরিবারগুলো। রয়টার্সের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে অর্থনীতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মনোভাবের অবনতি হয়েছে। নির্বাচনে ট্রাম্প নিজে প্রার্থী না হলেও তার অর্থনৈতিক নীতি ও প্রশাসনের কর্মকাণ্ডই ভোটারদের কাছে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।

