যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েলের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আয়োজিত আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দাবির’ কারণে ভেস্তে গেছে। এমনটাই দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি।
এক বিবৃতিতে আইআরআইবি জানায়, ইরানি জনগণের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তাদের প্রতিনিধিদল টানা ২১ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ও নিবিড়ভাবে আলোচনা চালিয়েছে। ইরানি প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গঠনমূলক উদ্যোগ নেয়া হলেও মার্কিন পক্ষের অন্যায্য ও অযৌক্তিক দাবিগুলো আলোচনার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। ফলে কোনো ফলাফল ছাড়াই এ আলোচনার ইতি ঘটেছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এ আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই তাদের সর্বোচ্চ দাবিতে অনড় অবস্থানে ছিল। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণকারী জাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়ে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।
আলোচনার অস্থিরতা দৃশ্যমান হয় যখন ইরানি গণমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘অন্যায্য দাবি’ তোলার অভিযোগ আনে। এ প্রণালি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ এ পথেই সরবরাহ করা হয়।
শনিবার কয়েক ঘণ্টা আলোচনা চলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে, আলোচনার ফলাফল নিয়ে তিনি বিচলিত নন। বরং তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানি নেতাদের হত্যা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যেই জয়ী হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারি কি না, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। কারণ আমরা এরইমধ্যে জিতে গেছি।
এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, জবাবে তেহরানও পাল্টা হামলা শুরু করে। এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

