মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দেশটি সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধানের সফরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশীয় শ্রমবাজার আবার চালুর ঘোষণা আসতে পারে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক প্রথম বিদেশ সফরে কোন দেশে যাবেন, তা নিয়ে গত তিন মাস নানা আলোচনা চলছিল। ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং এই অঞ্চলের প্রধান শক্তিগুলোর সঙ্গে একটি সতর্ক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল হিসেবে সরকারপ্রধান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ায় প্রথম সফর বেছে নিলেন। এরপর তিনি যাবেন চীনে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের মালয়েশিয়া যাওয়ার সূচি ঠিক হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২১ থেকে ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী কুয়ালালামপুর সফর করবেন। এরপর ২৩ থেকে ২৬ জুন সরকারপ্রধানের চীন সফরের দিনক্ষণ ঠিক করা আছে। প্রধানমন্ত্রী কুয়ালালামপুর থেকে সরাসরি বেইজিং যাবেন, নাকি ঢাকায় ফিরে বেইজিং যাবেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকা শ্রমবাজারের জট খুলতে পারে। ফের বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশীয় শ্রমবাজার চালুর ঘোষণা আসতে পারে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বড় কোনো উপলক্ষ্য ধরে সাধারণত সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানদের সফরের সিদ্ধান্ত হয়। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়ার সফরের বড় একটি উপলক্ষ্য হতে পারে শ্রমবাজার চালুর বিষয়টি।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে যাবেন এটা জানি। শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে এখনো কোনো খবর জানা নেই। তবে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষ্যে এটি হতেও পারে।
শিগগিরই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার একটি ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, শ্রমবাজারটা খুলে যাবে। ১০-১৫ দিন বা এক মাসের মধ্যে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

