অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ অবস্থানে বাংলাদেশ। ডারউইন টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানে অলআউট হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ পেয়েছে ২২৮ রানের বড় লিড। দিনের শুরুতে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ।
আগের দিন ৪৩ রানে অপরাজিত থাকা মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে হাসান মাহমুদ প্রতিরোধ গড়েছিলেন। তবে দিনের চতুর্থ ওভারে জশ হ্যাজেলউডের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে হাসান ফিরলে ভাঙে ১৭০ বলের ৪৬ রানের জুটি। ৯২ বলে ১৪ রান করেন তিনি। এরপর তাইজুল ইসলামকে নিয়ে এগিয়ে যান মিরাজ।
জশ হ্যাজেলউডের ছক্কা মেরে আক্রমণাত্মক শুরুও করেছিলেন তাইজুল। তবে তার বলেই গালিতে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১৭ রানে ফেরেন তিনি। মিরাজের সঙ্গে তার জুটি ছিল ২৫ বলে ১৮ রানের।
তাইজুল ফেরার পর তাসকিন আহমেদকে নিয়ে দলের রান বাড়াতে থাকেন মিরাজ। মিচেল স্টার্কের ওভারে দুই রান নিয়ে ১১৭ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের দশম ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। এরপর দুজনের জুটি আরও জমে ওঠে। অস্ট্রেলিয়া শেষ দুটি উইকেটের একটি পাওয়ার আশায় রিভিউ নিলেও ব্যর্থ হয়। মিরাজের বিপক্ষে সেই সিদ্ধান্তে ব্যর্থ হওয়ার পর স্বাগতিকদের তিনটি রিভিউই শেষ হয়ে যায়।
এরপর প্যাট কামিন্সের ওভারে জীবন পান দুজনই। প্রথমে তাসকিনের ক্যাচ নিতে পারেননি স্টিভেন স্মিথ। পরে মিরাজের ক্যাচ ছাড়েন ট্রাভিস হেড। সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ চারশ পার করে। মিরাজ অবশ্য শেষ পর্যন্ত থামেন ৬৫ রানে।
মিরাজের সঙ্গে ৪৬ রানের নবম উইকেট জুটি ভাঙেন হ্যাজেলউড। অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেংথের বল বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারির হাতে ক্যাচ দেন মিরাজ। ১৫৪ বলে পাঁচ চার ও এক ছক্কায় ৬৫ রান করেন তিনি। এই উইকেটেই টেস্টে নিজের ৩০০তম শিকার পূর্ণ করেন হেইজেলউড।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৩৭.৪ ওভারে ৪২৬ রানে। হ্যাজেলউড ৮৯ রান দিয়ে নেন ৬ উইকেট। নাথান লায়ন পেয়েছেন একটি উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার বাকি বোলারদের মধ্যে স্টার্ক ও কামিন্স দুটি করে এবং ওয়েবস্টার একটি উইকেট নেন।
বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তানজিদ করেন ১০১, শান্ত ৮৪ এবং মুমিনুল ৪৯ রান। মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান। তানজিদের শতকটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি।
প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের ৪২৬ করে। আর তাতেই ২২৮ রানের লিড নিয়ে এখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে।

