১৬ বছর শাসনের পর হাঙ্গেরির পার্লামেন্ট নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেছেন ভিক্টর অরবান। তিনি একইসঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। আংশিক সরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, পিটার মাগিয়ার নেতৃত্বাধীন তিসজা পার্টি বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে।
হাঙ্গেরির সময় রোববার (১২ এপ্রিল) সামাজিক মাধ্যমে মাগিয়ার জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান আমাদের বিজয়ের জন্য ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন।’ তখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের ফল অনুযায়ী, তিসজা পার্টি পেয়েছে ৫২.৪৯ শতাংশ ভোট এবং অরবানের ফিদেস পার্টি পেয়েছে ৩৮.৮৩ শতাংশ। তথ্য আল-জাজিরার।
অন্যদিকে অরবান তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি বিজয়ী দলকে অভিনন্দন জানিয়েছি। ফলাফলটি বেদনাদায়ক হলেও পরিষ্কার।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার গঠনের দায়িত্ব আমাদের দেয়া হয়নি। এখন আমরা বিরোধী দল হিসেবে দেশের সেবা করে যাব।’
আংশিক ফলাফলে দেখা গেছে, হাঙ্গেরির ১০৬টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ৯৫টিতেই এগিয়ে রয়েছে তিসজা পার্টি। ১৯৯ আসনের পার্লামেন্টে দলটি ১৩০টির বেশি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতীয় নির্বাচন দপ্তর জানিয়েছে, ভোটগ্রহণে অংশগ্রহণের হার ছিল ৭৭ শতাংশের বেশি, যা দেশটির পোস্ট-কমিউনিস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
অরবানের এই পরাজয় শুধু হাঙ্গেরিতেই নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে হাঙ্গেরির টানাপোড়েন কমতে পারে এবং ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য আটকে থাকা প্রায় ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ অনুমোদনের পথ খুলে যেতে পারে।

