নাইজেরিয়ার প্রখ্যাত লেখক, নাট্যকার,সাহিত্যে নোবেলজয়ী উলে সোয়িংকারের মার্কিন ভিসা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) লাগোসে নিজের আর্ট গ্যালারির এক অনুষ্ঠানে তিনি নিজেই ভিসা বাতিলের এই তথ্য জানান। তিনি ১৯৮৬ সালে আফ্রিকার প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন।
সোয়িংকা জানিয়েছেন, গত ২৩ অক্টোবর লাগোসে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট থেকে তাকে একটি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে তাকে তার পাসপোর্ট নিয়ে কনস্যুলেটে হাজির হতে বলা হয়েছে “ভিসাটি শারীরিকভাবে বাতিল করার জন্য।” ৯১ বছর বয়সী এই সাহিত্যিক রসিকতা করে চিঠিটিকে ‘একটি অদ্ভুত ভালোবাসার চিঠি’ বলে বর্ণনা করেন।
জানা গেছে, জো বাইডেন প্রশাসনের সময় সোয়িংকার ভিসাটি ইস্যু করা হয়েছিল। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে তার প্রশাসন অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল করা হচ্ছে।
সোয়িংকা বলেন, ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্তে তিনি উদ্বিগ্ন নন, তবে এর ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যেতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তে তিনি “খুব সন্তুষ্ট” বলে রসিকতা করে কনস্যুলেটকে আশ্বস্ত করেন। হাসির ছলে তিনি আরও বলেন, হয়তো এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে একটি নাটক লেখার সময় এসেছে।
সোয়িংকাকে আফ্রিকার অন্যতম প্রভাবশালী লেখক হিসেবে গণ্য করা হয়। তার বিখ্যাত সৃষ্টিকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে—এ ডান্স অব দ্যা ফরেস্ট, দ্য লায়ন এন্ড দ্য জুয়েল ও ডেথ এন্ড দ্য কিংস হর্সম্যান।
উল্লেখ্য, এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন পদক্ষেপের শিকার হয়েছেন ১৯৮৭ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী কোস্টা রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট অস্কার আরিয়াস।

