গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাশিয়ার বিভিন্ন অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন। দেশটির এ হামলায় অর্থনীতি ও সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার (১২ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি রাশিয়ার নিজনেকাস্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার দাবির পর পুতিন এই মন্তব্য করেছেন। ক্রেমলিন বলেছে, এসব হামলা সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারবে না। অর্থনীতি দ্রুত এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠবে।
আল জাজিরা বলছে, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলায় রাশিয়ার অভ্যন্তরে অবস্থিত তেল শোধনাগার, জ্বালানি ডিপো এবং পাইপলাইনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে ফ্রন্টলাইনে রাশিয়া কিছুটা ধীরগতির হওয়ায় এসব হামলাগুলো মস্কোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।
পুতিন বলেছেন, এসব হামলা ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার অভিযানকে কোনোভাবেই থামাতে পারবে না। তারা আমাদের অর্থনীতির ক্ষতি করছে। কিন্তু আমরা এটি দ্রুতই কাটিয়ে উঠবো। এই হামলার মূল লক্ষ্য আমাদের সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করা।
তিনি বলেন, এই হামলা আমাদের সমাজকে বিভক্ত বা অর্থনীতির বড় ক্ষতি করতে পারবে না। অন্তত তারা যেভাবে চাচ্ছে সেভাবে সফল হতে পারবে না। ইউক্রেন বলছে, রাশিয়া প্রতিদিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আমাদের শহর ও জনপদ ধ্বংস করছে। এর জবাবে এসব হামলা ন্যায্য প্রতিশোধ।
ইউক্রেন রাশিয়ার অবকাঠামোতে হামলার পাশাপাশি অধিকৃত ক্রিমিয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থাকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলবাহী ট্রাকও রয়েছে। এতে করে ২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখলের পর থেকে কৃষ্ণসাগরীয় উপদ্বীপটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ (আইএসডব্লিউ) বলছে, ইউক্রেনের দূরপাল্লার এবং মধ্যপাল্লার হামলার মধ্যে একটি বিশেষ সমন্বয় রয়েছে। দেশটির দূরপাল্লার হামলাগুলো রাশিয়ার উৎপাদন ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে, আর মধ্যপাল্লার হামলাগুলো উৎপাদিত জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সংকটের কথা স্বীকার করেছেন ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কি বলেছেন, মে মাসে রাশিয়ার দখল করা ভূখণ্ডের চেয়ে বেশি এলাকা উদ্ধার করেছে ইউক্রেন। এটি ফ্রন্টলাইনে রাশিয়ার গত কয়েক মাসের অগ্রগতির ধারাকে পাল্টে দিয়েছে।

