ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা করছে—এমন গোয়েন্দা তথ্য সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রেকে দিয়েছে ইসরাইল। এ তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একটি নির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো। শুক্রবার (১০ জুলাই) দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের হাতে থাকা গোয়েন্দা তথ্যে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের একটি নতুন হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এই তথ্য ঠিক কবে এবং কোন মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন পৃথক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যটি ট্রাম্পকে হত্যার একটি ‘নির্দিষ্ট’ পরিকল্পনা সম্পর্কিত।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যদিও এর আগে ওয়াশিংটন একাধিকবার দাবি করেছে, ট্রাম্পকে হত্যার ইরানি পরিকল্পনা তারা নস্যাৎ করে দিয়েছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে ইরান।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শোকানুষ্ঠানেও ট্রাম্পের মৃত্যুর আহ্বানসংবলিত স্লোগান ও বক্তব্য প্রকাশ্যে উঠে এসেছে।
চলতি সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প নিজের নিরাপত্তা নিয়ে হুমকির প্রসঙ্গ তোলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি তাদের হত্যার তালিকায় আছি। আজ সকালে দেখলাম, আমি তাদের সব তালিকাতেই রয়েছি। এখন পর্যন্ত হয়তো আমি কিছুটা ভাগ্যবান ছিলাম, কিন্তু সেই ভাগ্য কতদিন থাকবে, তা জানি না।’
এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। দুই দেশের চলমান সমন্বয়ের অংশ হিসেবে এ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ফোনালাপে ট্রাম্প উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান তৎপরতা এবং ইরানের বিভিন্ন সম্পদ ও স্থাপনায় মার্কিন হামলার বিষয়ে নেতানিয়াহুকে অবহিত করেন।
এ সময় নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির কোনো চুক্তি অনুমোদন না দেয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের ইসরাইল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নিয়ে করা কঠোর মন্তব্যের বিষয়টিও ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেন নেতানিয়াহু।
ফোনালাপে ইসরাইলের সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা অঞ্চল (সিকিউরিটি জোন) বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী।

