পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন।
দীর্ঘ আলোচনার পর কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো না যাওয়ায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আপাতত থেমে গেছে। আর সেই প্রেক্ষাপটেই ওয়াশিংটনের পথে রওনা দিয়েছেন তিনি ও তার প্রতিনিধি দল।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে তিনি ইসলামাবাদে এয়ার ফোর্স টু বিমানে আরোহন করেন।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান ছেড়েছেন।
ইসলামাবাদ থেকে উড্ডয়নের আগে বিমানের সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে তিনি হাত নেড়ে বিদায় জানান। এরপর তিনি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা দেন।
এর আগে এক প্রেস কনফারেন্সে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, কোনও চুক্তি ছাড়াই তারা দেশে ফিরছেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি প্রথমেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে ধন্যবাদ জানান এবং তাদের ‘অসাধারণ আতিথেয়তার’ প্রশংসা করেন।
ভ্যান্স বলেন, ‘আলোচনায় যে ঘাটতিগুলো রয়ে গেছে, সেগুলোর জন্য পাকিস্তানিদের দায়ী করা যাবে না। তারা অসাধারণ কাজ করেছে এবং আমাদের ও ইরানের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সত্যিই চেষ্টা করেছে। আমরা প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করেছি এবং ইরানিদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এটা ভালো দিক।’
তিনি আরও বলেন, ‘খারাপ খবর হলো আমরা কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি এবং আমি মনে করি এটা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইরানের জন্য বেশি খারাপ খবর। তাই আমরা কোনও চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছি। আমরা আমাদের ‘রেড লাইন’ কী, কোন বিষয়ে ছাড় দিতে পারি আর কোন বিষয়ে পারি না— সবই পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের শর্ত মেনে নেয়নি।’
পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে ইরান কী প্রত্যাখ্যান করেছে— এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্যান্স বিস্তারিত বলতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিক যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করবে না।

