শুরু হয়েছে চলতি বছরের জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব। অন্যান্য বছরের মতো এবারও শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে নয় দিনব্যাপী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে ঢাকাস্থ ইসকন স্বামীবাগ মন্দিরে বিশ্বশান্তি কামনায় বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ সহযোগে অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মাধ্যমে রথযাত্রা উৎসবের শুভ সূচনা হয়। বিকেল ৩টায় মন্দির থেকে শোভাযাত্রাসহকারে বের হবে জগন্নাথদেবের রথ যেটি সন্ধ্যা ৭টায় শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গনে পৌছাবে।
রাজধানীর স্বামীবাগ থেকে রথযাত্রা শুরু হয়ে জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলার মোড়, পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেস ক্লাব, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনার ও পলাশীর মোড় হয়ে শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে পৌঁছাবে।
সেখানে এক সপ্তাহ অবস্থান করার পর আগামী ২৪ জুলাই শ্রীশ্রী জগন্নাথদেব শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে একই পথে স্বামীবাগ মন্দিরে ফিরে আসবে। এ যাত্রাকে সনাতন ধর্মে বলা হয় উল্টো রথযাত্রা।
বাংলাদেশে চলতি বছর ইসকনের আয়োজনে ১২৮টি রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভারতের উড়িষ্যায় পুরী রথযাত্রার পর ইসকন আয়োজিত ঢাকার এ রথযাত্রা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম রথযাত্রা।
প্রেম-পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীচৈতন্যদেবের প্রেমধর্মে দীক্ষিত ভারতীয় সন্ন্যাসী, ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা-আচার্য শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ এই রথযাত্রার বিশ্বায়ন ঘটিয়েছেন। ইসকনের উদ্যোগে ১৯৬৭ সালে আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকো শহরে সর্বপ্রথম শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসবের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো সামাজিক মেলবন্ধন। বর্তমানে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, আমেরিকা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর, পাকিস্তানসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশের বড় বড় শহরে রথযাত্রা উদ্যাপিত হয়।
ইসকন বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, এ ধরনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করবে।
উল্লেখ্য, মতবিনিময় সভায় রথযাত্রার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সকল দেশবাসীর প্রতি বিশেষ করে বর্তমান সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিদ্যুৎ বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, সংবাদমাধ্যম, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের প্রতি আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।

