ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেহরান। এমনটাই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেয়ার খবরকে ‘ভুয়া সংবাদ’ বলেও উড়িয়ে দিয়েছেন। যদিও শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক সহায়তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে আসছে।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ইরান সম্মত হয়েছে যে তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে— এমন খবরও ভুয়া। এটি ডেমোক্র্যাটদের ছড়ানো মিথ্যা প্রচার।’
একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের অবসান এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ নিয়ে আলোচনার কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছায়। তবে চুক্তির বিস্তারিত এখনও স্পষ্ট নয় এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ট্রাম্পের পোস্টে ইঙ্গিত দেয়া হয়, বৃহত্তর সমঝোতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আর্থিক প্রণোদনা দিচ্ছে। তবে এমন প্রতিবেদন তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অবশ্য সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলোচিত অঙ্কটি ৩০০ মিলিয়ন ডলার নয়, বরং ৩০০ বিলিয়ন ডলার।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পুরো সংঘাতজুড়েই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এক্সে দেয়া এক পোস্টে ভ্যান্স লেখেন, ‘প্রথম দিন থেকেই প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেছেন যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।’
তিনি এই সমঝোতাকে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবেও বর্ণনা করেন। ভ্যান্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আবারও মার্কিন জনগণের জন্য ভালো ফল বয়ে এনেছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ঘৃণা করে এমন অনেকেইেএই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করার চেষ্টা করেছে।’
এর আগে সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে পৌঁছে তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে জেনেভায় আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জেডি ভ্যান্স অংশ নেবেন।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারককে যুদ্ধ বন্ধের পথে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার জন্য চূড়ান্ত চুক্তি এখনও আলোচনার ওপরই নির্ভর করছে।
এদিকে ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেয়া নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। ইরানের মেহর বার্তাসংস্থার উদ্ধৃত সূত্রগুলোর দাবি, শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইরানের আলোচক দল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কাছে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা উপস্থাপনের কথা জানিয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি একটি বৃহত্তর প্রস্তাবের অংশ। এতে ৬০ দিনের আলোচনার সময় ইরানের জব্দ থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড় করার বিষয়ও রয়েছে। এর অর্ধেক অর্থ শুরুতেই ছাড় করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
এছাড়া ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা এবং বিদেশে থাকা ইরানের আর্থিক সম্পদে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেয়ার কথাও এই প্রস্তাবে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যমগুলো এই প্রস্তাবকে যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং টেকসই শান্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে তুলে ধরছে। ইরানের কর্মকর্তারা বারবার বলে আসছেন, তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে বাস্তব সুবিধা দিতে হবে। তাদের কিছু হিসাব অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
তবে পশ্চিমা গণমাধ্যমে একই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি সরাসরি ক্ষতিপূরণ নয়। বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও পুনর্গঠন কর্মসূচি হতে পারে এবং এর বাস্তবায়নে ওয়াশিংটন সহায়তা করবে। এতে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণ দেয়ার পরিবর্তে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

