ইরানের অবরোধের মুখে আটকে থাকা জাহাজগুলোকে উদ্ধার করতে হরমুজ প্রণালিতে প্রজেক্ট ফ্রিডম নামে নতুন এক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমের একটি পোস্টে এ কথা জানান তিনি।
ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান, মধ্যপ্রাচ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আমরা এসব দেশগুলোকে জানিয়েছি যে, আমরা তাদের জাহাজগুলোকে অবরুদ্ধ জলপথ থেকে নিরাপদে বের করে নিয়ে আসব। যাতে তারা অবাধে ও দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে।
তবে পোস্টে অবশ্য তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। ফলে এ দেশগুলোকে বলতে ঠিক কোন দেশগুলোকে বোঝানো হয়েছে, সেটি এখনও পরিষ্কার নয়। নতুন অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে নেওয়া একটি মানবিক পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই জাহাজ চলাচলের উদ্দেশ্য কেবল সেইসব ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং দেশগুলোকে মুক্ত করা, যারা মোটেও খারাপ কিছুর জন্য দায়ী নয়।
অভিযান চলাকালে কেউ কোন ধরনের হস্তক্ষেপ বা বাঁধা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সেটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, মার্কিন প্রতিনিধিরা ইরানের সঙ্গে খুবই ইতিবাচক আলোচনা করছেন। ওই আলোচনা সকলের জন্য খুব ইতিবাচক কিছু বয়ে আনতে পারে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
তবে তেহরানের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে অভিযানটি কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রজেক্ট ফ্রিডম-এর আওতায় তাদের প্রায় ১৫ হাজার সদস্য, শতাধিক যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ নিয়োজিত থাকবে।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এরপর ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পাল্টা নৌ অবরোধ চালিয়ে আসছে।
এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথটিতে বিভিন্ন দেশের পণ্যবাহী অনেক জাহাজ ও প্রায় ২০ হাজার নাবিক ও কর্মী সমুদ্রে আটকা পড়েছেন। গত কয়েক মাসে খাবার, ওষুধসহ তাদের প্রয়োজনীয় রসদ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। এছাড়া দীর্ঘদিন সমুদ্রে আটকে থাকার কারণে নাবিকদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি, বিশেষত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। যুদ্ধের কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে জলপথটিতে মার্কিন অভিযান শুরুর ঘোষণা এলো।

