অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন কাকে বলে, তা আরও একবার দেখাল থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। আরলিং হালান্ডের নরওয়ের রূপকথার পথচলা থামিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পা রাখল থ্রি লায়ন্সরা। আর এই মহাকাব্যিক জয়ের মহানায়ক আর কেউ নন—রিয়াল মাদ্রিদের ইংলিশ সেনসেশন জুড বেলিংহাম। তার জাদুকরী জোড়া গোলেই অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ওঠার এই জমজমাট লড়াইয়ে প্রথমার্ধেই ধাক্কা খেয়েছিল ইংল্যান্ড। ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আসা নরওয়ে শুরু থেকেই ছিল আত্মবিশ্বাসী। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে বেনফিকার উইঙ্গার আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের দুর্দান্ত এক শটে লিড নেয় স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা। বোকা বনে যান ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।
তবে ইংল্যান্ডকে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকতে দেননি আসরে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বেলিংহাম। প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে (৪৫+১ মিনিট) অ্যান্থনি গর্ডনের পাস থেকে বল পেয়ে নরওয়ের ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে সমতা ফেরান এই মিডফিল্ডার। ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে তোরবজর্ন হেগ্গেমের গোলে নরওয়ে উল্লাসে মেতে উঠলেও ভিএআর প্রযুক্তির কল্যাণে তা বাতিল হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতে ইংলিশ ডিফেন্ডারকে ধাক্কা দিয়েছিলেন ম্যানচেস্টার সিটি তারকা আরলিং হালান্ড।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে খেলা ১-১ সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে অতিরিক্ত সময়ের মাত্র তৃতীয় মিনিটেই (৯৩ মিনিট) ইতিহাস গড়ে ফেলেন বেলিংহাম। মর্গান রজার্সের একটি জোরালো শট নরওয়েজিয়ান গোলরক্ষক ওরজান নাইল্যান্ড ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে না পারলে ফিরতি বলে লক্ষ্যভেদ করেন বেলিংহাম। এটি চলতি বিশ্বকাপে তার ষষ্ঠ গোল।
পুরো ম্যাচে নরওয়ের সবচেয়ে বড় তারকা আরলিং হালান্ড ছিলেন পুরোপুরি বোতলবন্দী। ইংলিশ ডিফেন্সের কড়া পাহারায় কোনো আলো ছড়াতে পারেননি তিনি। উল্টো অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধ শেষে (১০৫ মিনিট) তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন নরওয়ে কোচ।
১৯৬৬ সালের পর নিজেদের প্রথম বড় ট্রফির খোঁজে থাকা ইংল্যান্ড আগামী ১৫ জুলাই সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা অথবা সুইজারল্যান্ডের।
ম্যাচ সংক্ষেপ
-
ফলাফল: ইংল্যান্ড ২ : ১ নরওয়ে (অতিরিক্ত সময়ে)
-
গোলদাতা: আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ (৩৬ মি.); জুড বেলিংহাম (৪৫+১ মি., ৯৩ মি.)
-
ভেন্যু: হার্ড রক স্টেডিয়াম, মায়ামি, ফ্লোরিডা

