মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পদ ছাড়লেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকবেন। একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
মো. সাহাবুদ্দিনের প্রায় তিন বছরের দায়িত্বকাল ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম ঘটনাবহুল সময়। তার মেয়াদকালেই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল শেষ হলে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই সময়ের মধ্যে তিনি তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান, যা দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।
এর আগেও একাধিক রাষ্ট্রপতি মেয়াদ পূর্ণ না করেই বিদায় নিতে হয়েছে। তবে এবার স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে বিদায় নিলেন সাহাবুদ্দিন। বিশ্লেষকরা বলেছেন, তার পদত্যাগের অন্যতম কারণ সরকারের সঙ্গে দূরত্ব।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন বলেন, মো. সাহাবুদ্দিনের বিদায়ের পেছনে শুধু স্বাস্থ্যগত কারণই নয়, বর্তমান সরকারের সঙ্গে তার দূরত্বও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি আরও বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ প্রার্থী দিতে পারে। তবে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনিই হবেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।
নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির সব সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। এরপর সংসদে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

