বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মঞ্চ, যেখানে প্রতিপক্ষ দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী—আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ফাইনালের টিকিট কাটার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের আগে দুই দলই তাদের রণকৌশলে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে। ইংলিশ কোচ টমাস টুখেল যেখানে একাদশে এনেছেন তিন পরিবর্তন, সেখানে আলবিসেলেস্তে বস লিওনেল স্কালোনি চমকে দিয়েছেন মিডফিল্ডের ‘ইঞ্জিন’ রদ্রিগো দি পলকে বসিয়ে রেখে।
দি পলের জায়গায় সিমিওনে: স্কালোনির বড় জুয়া
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের একাদশ থেকে মাত্র একটি পরিবর্তন এনেছে আর্জেন্টিনা। তবে সেই একটি পরিবর্তনই পুরো ফুটবল মহলে জন্ম দিয়েছে তুমুল আলোচনার। মাঝমাঠের অতন্দ্র প্রহরী ও লিওনেল মেসির অন্যতম বড় ভরসা রদ্রিগো দি পলকে বেঞ্চে বসিয়ে একাদশে সুযোগ দেওয়া হয়েছে তরুণ উইঙ্গার জুলিয়ানো সিমিওনেকে।
দি পলের কোনো চোটজনিত সমস্যা নেই; পরিবর্তনটি এসেছে সম্পূর্ণ কৌশলগত কারণে। দিয়েগো সিমিওনের ছেলে জুলিয়ানো ডান প্রান্তে গতি ও দুর্দান্ত কাজের হার (work-rate) দিয়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখতে পারেন—এমন ভাবনা থেকেই স্কালোনি এই ঝুঁকি নিয়েছেন। জুলিয়ানো একাদশে আসায় আর্জেন্টিনা আজ প্রথাগত কৌশলের বাইরে গিয়ে একটু অসম বা লপসাইডেড পদ্ধতিতে আক্রমণ সাজাতে পারে, যেখানে আলেক্সিস মাক আলিস্তের মাঠের অন্য প্রান্ত আগলে রাখবেন।
টুখেলের তিন পরিবর্তন: রক্ষণ ও আক্রমণে নতুন পরিকল্পনা
অন্যদিকে, প্রতি ম্যাচেই নতুন চমক দেওয়া ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল সেমিফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও নিজের সাহসী রূপ বজায় রেখেছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে খেলা একাদশে তিনি তিনটি বড় পরিবর্তন এনেছেন।
রক্ষণভাগ আরও মজবুত করতে এবং গতি বাড়াতে টুখেল একাদশে ফিরিয়েছেন রিস জেমস ও জেড স্পেনসকে। তারা জায়গা করে নিয়েছেন এজরি কনসা ও নিকো ও’রাইলির বদলে। এদিকে উইংয়ে ননি মাদুয়েকের জায়গায় শুরু থেকেই খেলবেন আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার মরগান রজার্স। ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগকে বাড়তি ধার দিতে এবং মাঝমাঠে বেলিংহাম-রাইসদের সহায়তায় রজার্সের ওয়ার্করেট বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দুই দলের চূড়ান্ত একাদশ
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেমিফাইনালের এই মহারণের জন্য দুই দলের চূড়ান্ত একাদশ:
| অবস্থান | আর্জেন্টিনা জাতীয় দল (৪-১-৩-২) | ইংল্যান্ড জাতীয় দল (৪-২-৩-১) |
| গোলরক্ষক | এমিলিয়ানো মার্তিনেস | জর্ডান পিকফোর্ড |
| রক্ষণভাগ | নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো | রিস জেমস, জন স্টোনস, মার্ক গেহি, জেড স্পেনস |
| মধ্যমাঠ | লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস মাক আলিস্তের, জুলিয়ানো সিমিওনে | ডেকলান রাইস, এলিয়ট অ্যান্ডারসন, জুড বেলিংহাম |
| আক্রমণভাগ | লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেস | মরগান রজার্স, অ্যান্থনি গর্ডন, হ্যারি কেইন |
ইতিহাস ও রোমাঞ্চের হাতছানি
১৯৬৬ সালের সেই বিতর্কিত কোয়ার্টার ফাইনাল, কিংবা ১৯৮৬-তে ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘শতাব্দীর সেরা গোল’—ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা ম্যাচ মানেই মাঠের ভেতরের ফুটবলের পাশাপাশি একরাশ আবেগ ও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। আজ আটলান্টায় যে দলই জিতবে, তারা আগামী রোববার নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে ফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেনের।
মেসির জাদুকরী ফর্মের বিপরীতে ইংল্যান্ডের ভরসা হ্যারি কেইন ও দুর্দান্ত ছন্দে থাকা জুড বেলিংহাম। মাঠের যুদ্ধ শুরুর আগেই দুই কোচের এমন রণকৌশলগত পরিবর্তন ম্যাচটিকে আরও বেশি রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত স্কালোনির ‘সিমিওনে কার্ড’ নাকি টুখেলের ‘রক্ষণ-বদল’—কার মাথায় উঠবে জয়ের মুকুট, তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।

