আবারও নকআউটের ইউরোপীয় জুজু এবং আবারও ব্রাজিলের কান্না। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নরওয়ের কাছে ২–১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই হারে ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের ‘মিশন হেক্সা’ আরও একবার থমকে গেল। অন্যদিকে, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় চমক দেখিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল নরওয়ে।
ম্যাচের নায়ক নিঃসন্দেহে আর্লিং হালান্ড। পুরো ম্যাচ জুড়ে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের কড়া পাহারায় প্রায় নিষ্ক্রিয় থাকা এই স্ট্রাইকার ম্যাচের শেষ ১১ মিনিটে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। ৭৯ ও ৯০ মিনিটে তাঁর করা চোখ ধাঁধানো জোড়া গোলেই নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের বিদায়। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (৯০+৯ মিনিট) নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও তা কেবল সান্ত্বনাই বাড়িয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলা জমে ওঠে। ম্যাচের ৩ মিনিটেই প্যাট্রিক বার্গের গোলে নরওয়ে এগিয়ে গিয়েছিল, তবে ভিএআর (VAR) পরীক্ষায় তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
ম্যাচের ১৩ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। ম্যাথুস কুনিয়াকে বক্সের ভেতর ক্রিস্টোফার আঝের ফাউল করলে পেনাল্টি পায় কার্লো আনচেলত্তির দল। তবে ব্রুনো গিমারায়েসের দুর্বল পেনাল্টি কিকটি ডানদিকে ঝাঁপিয়ে চমৎকারভাবে রুখে দেন নরওয়েজিয়ান গোলরক্ষক অরজান নিল্যান্ড। পেনাল্টি মিসের এই ধাক্কা পুরো ম্যাচে ব্রাজিলকে ভুগিয়েছে। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধে ভিনিসিউস জুনিয়র ও বদলি নামা নেইমার নরওয়ের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল আসছিল না। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় শেষভাগে:
-
৭৯ মিনিট (০–১): বদলি খেলোয়াড় আন্দ্রেয়াস শিয়েলডেরুপের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে নরওয়েকে এগিয়ে নেন আর্লিং হালান্ড।
-
৯০ মিনিট (০–২): কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল পেয়ে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সকে চূর্ণ করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিন। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে ৭ গোল করে লিওনেল মেসির সাথে যৌথভাবে গোলদাতার শীর্ষস্থানে উঠে এলেন হালান্ড।
-
৯০+৯ মিনিট (১–২): ব্রাজিলের পক্ষে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করেন নেইমার। তবে সমতায় ফেরার আর কোনো সময় ছিল না সেলেসাওদের।
পরিসংখ্যানের আয়নায় ম্যাচ
| দল | গোল | অন টার্গেট শট | পেনাল্টি | ফাউল | কার্ড (হলুদ) |
| ব্রাজিল | ১ | ৫ | ২ (১টি মিস) | ১২ | ১ |
| নরওয়ে | ২ | ৪ | ০ | ১৪ | ০ |
ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে এই হার এক বড় বিপর্যয়। ১৯৯০ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই (শেষ ১৬ থেকে) বিদায় নিল তারা। এর আগে টানা আটটি বিশ্বকাপে অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল সেলেসাওরা। একই সাথে ইউরোপীয় দলগুলোর কাছে নকআউটে ব্রাজিলের টানা ষষ্ঠবারের মতো বিদায় নেওয়ার লজ্জাজনক রেকর্ড এটি।
মজার ব্যাপার হলো, আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের কখনো না হারার অনন্য রেকর্ডটি এই ম্যাচেও অক্ষুণ্ণ রইল। পাঁচবারের দেখায় নরওয়ের এটি তৃতীয় জয়, বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছিল। ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টারে যাওয়া নরওয়ে আগামী ১১ জুলাই মিয়ামিতে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড অথবা মেক্সিকোর।

