এস্তাদিও আসতেকার ৮০ হাজারেরও বেশি দর্শক তখন স্তব্ধ। স্বাগতিক মেক্সিকোর চেনা দুর্গ, যেখানে বিশ্বকাপে আগের ১০ ম্যাচে তারা ছিল অপরাজিত, সেখানেই রচিত হলো এক মহাকাব্যিক ফুটবল ট্র্যাজেডি। প্রতিকূল আবহাওয়া আর ৫ গোলের অবিশ্বাস্য এক থ্রিলারে মেক্সিকোকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের প্রায় অর্ধেক সময় ১০ জন নিয়ে খেলেও থমাস টুখেলের শিষ্যরা মাঠ ছেড়েছে বিজয়ীর বেশে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে উত্তাপ ছড়াচ্ছিল ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়াম। তবে ৩৬তম মিনিটে প্রথম ডেডলক ভাঙেন ইংল্যান্ডের তরুণ তারকা জুড বেলিংহাম। বুকায়ো সাকার দারুণ এক ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়ান তিনি। মেক্সিকান ডিফেন্স সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই, ঠিক ৯৮ সেকেন্ড পর (৩৮তম মিনিটে) আবারও বেলিংহামের ম্যাজিক। এবার অধিনায়ক হ্যারি কেইনের পাস থেকে নিখুঁত ট্যাপ-ইনে ব্যবধান ২-০ করেন এই মিডফিল্ডার।
তবে ঘরের মাঠে সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র ছিল না ‘এল ত্রি’রা। ৪২তম মিনিটে হুলিয়ান কিনোনেস এক গোল শোধ করলে গ্যালারিতে প্রাণ ফেরে। ২-১ ব্যবধানে শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪তম মিনিটে নাটকের নতুন মোড়। মেক্সিকোর হেসুস গ্যালার্দোকে বিপজ্জনক ফাউল করায় ভিএআর রিভিউ দেখে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসাহকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ১০ জনের ইংল্যান্ডকে চেপে ধরতে তখন মরিয়া মেক্সিকো। রক্ষণ সামলাতে বুকায়ো সাকাকে তুলে জন স্টোন্সকে মাঠে নামান টুখেল।
৬০তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ইংল্যান্ডের লিড ৩-১ করেন হ্যারি কেইন। এটি বিশ্বকাপে কেইনের ১৪তম গোল, যার মাধ্যমে তিনি কিংবদন্তি গার্ড ম্যুলারের পাশে বসলেন। তবে এর কিছুক্ষণ পরেই কেইনের নিজেদের ডি-বক্সে করা এক ফাউল থেকে পেনাল্টি পায় মেক্সিকো। ৬৮তম মিনিটে মেক্সিকান স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেস পেনাল্টি থেকে গোল করে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন (৩-২)।
ম্যাচের বাকি সময় এবং অতিরিক্ত ১১ মিনিটের ইনজুরি টাইমে ইংল্যান্ডের রক্ষণের ওপর যেন ঝড় বইয়ে দেয় মেক্সিকো। একের পর এক কর্নার আর ক্রস সামলাতে বুক চিতিয়ে লড়েছেন জর্ডান পিকফোর্ড ও ইংলিশ ডিফেন্ডাররা। শেষ পর্যন্ত মেক্সিকোর আক্রমণভাগের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সেমিফাইনালের পথে এক পা বাড়াল থ্রি লায়ন্সরা। আগামী শনিবার মায়ামিতে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।

