ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর পর্দা নামতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বজয়ের মহাযুদ্ধে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপীয় পরাশক্তি স্পেন। ১৯ জুলাই (বাংলাদেশ সময় ২০ জুলাই রাত ১টা) ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফিটির মালিকানা নির্ধারণ হবে। কিন্তু মাঠে বল গড়ানোর আগে তথ্য ও প্রযুক্তির দুনিয়ায় চলছে অন্য এক যুদ্ধ—পরিসংখ্যানের যুদ্ধ। ডাটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং ও সুপারকম্পিউটারের চোখ এবার কী বলছে? কে হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন?
ইউরোপ এবং আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় ফুটবল অ্যানালিটিক্স ও ডাটা সাইটগুলোর পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখে মিলল রোমাঞ্চকর কিছু পূর্বাভাস।
পরিসংখ্যানের আয়নায় চ্যাম্পিয়ন কে?
আন্তর্জাতিক ফুটবল গবেষণা সংস্থা ও ডাটা প্ল্যাটফর্মগুলোর রোবটিক সিমুলেশন বলছে, এবারের ফাইনাল ইতিহাসের অন্যতম তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক ম্যাচ হতে যাচ্ছে।
বিখ্যাত ডাটা অ্যানালিটিক্স প্ল্যাটফর্ম DataCamp-এর মন্টে কার্লো সিমুলেশনে টুর্নামেন্ট শুরুর ঐতিহাসিক ডাটা এবং ‘Elo rating’ রেটিং-এর পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে ১০,০০০ বার কৃত্রিম ম্যাচ খেলানো হয়েছে। তাদের সর্বশেষ গাণিতিক মডেলে দেখা গেছে, ট্রফি জেতার দৌড়ে স্পেন ও আর্জেন্টিনা উভয়েই সমান ১৬% সম্ভাবনা নিয়ে ফাইনালের মঞ্চে পা রাখছে।
এদিকে অস্ট্রিয়ার পরিসংখ্যানবিদ আচিম জেইলেইস এবং তার দল ওল্ড ট্রাফোর্ড কিংবা ইউরোপীয় ফুটবল ডাটার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছেন একটি হাইব্রিড মেশিন লার্নিং মডেল। যেখানে বিগত ৮ বছরের আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফলাফল এবং XGBoost অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়েছে। এই মডেলে ১৪.৫% সম্ভাবনা নিয়ে স্পেনের ট্রফি জেতার সুযোগ সবচেয়ে বেশি। তবে খুব বেশি পিছিয়ে নেই অন্য দলগুলোও, আর্জেন্টিনাকে কড়া টক্কর দিচ্ছে ইউরোপের বাকি পরাশক্তিরাও।
কেইউ লিউভেন স্পোর্টস ল্যাবের পূর্বাভাস
বেলজিয়ামের কেইউ লিউভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস অ্যানালিটিক্স ল্যাব প্রায় ২০,০০০ বার টুর্নামেন্ট সিমুলেশন পরিচালনা করেছে। তাদের মতে, মাঠের বর্তমান ফর্ম এবং পজিশনভিত্তিক শ্রেষ্ঠত্বে ল্যামিন ইয়ামাল-মিকেল মেরিনোদের স্পেন দলগত দক্ষতায় কিছুটা ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। তবে টুর্নামেন্টের পাওয়ার র্যাংকিংয়ে ১ নম্বরে থাকা ফ্রান্সকে সেমিফাইনালে ২-০ গোলে বিদায় করে ফাইনালে আসা স্প্যানিশদের জন্য লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার ডিফেন্স ভাঙা হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
মাঠের লড়াই বনাম খাতার হিসেব
পরিসংখ্যানের হিসেব যা-ই বলুক না কেন, নকআউট পর্বের চরম উত্তেজনাকর ম্যাচগুলো প্রমাণ করেছে যে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় মাঠের ৯০ মিনিটের উপস্থিত বুদ্ধিতে।
আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস সেমিফাইনাল জয়ের পর সংবাদমাধ্যমকে বলছিলেন, ‘আমাদের প্রতিটি নকআউট ম্যাচই ছিল এক একটি যুদ্ধ। মনে হয় লড়াই আর কষ্ট না থাকলে আমাদের জয়গুলো সম্পূর্ণ হয় না।’
অন্যদিকে, স্পেনের তরুণ তুর্কি ল্যামিন ইয়ামাল তো কোনো পরিসংখ্যানের তোয়াক্কাই করছেন না। ফাইনালে ওঠার আগে তার স্পষ্ট বার্তা ছিল, ‘আমরা কাউকেই ভয় পাই না।’
পরিসংখ্যানবিদদের অ্যালগরিদম এবং মাঠের তারকাদের জেদ—সবকিছুর চূড়ান্ত ফয়সালা হবে আগামী রোববারের মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে মেগা ফাইনালের এই মহারণে পরিসংখ্যানের ১৬ শতাংশের সমীকরণ ভেঙে কোন দল শেষ পর্যন্ত নিজেদের নামের পাশে তারকা বসাতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

