বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতিভা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর–এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে কবিগুরুর গান ছিল মানুষের প্রেরণার বিশেষ উৎস এবং তার সৃষ্টিকর্ম আজও মানবতা, শান্তি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার দিশারি হয়ে আছে।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা সাহিত্যের মহোত্তম কণ্ঠস্বর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর স্মৃতির প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এবং কবিগুরুর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ ছিল রবীন্দ্রনাথের সৃজনশীলতার মূল অন্বেষা। কবিতা, গান, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, নৃত্যনাট্য ও চিত্রকলার মাধ্যমে তিনি মানুষ, প্রেম, প্রকৃতি ও মানবতার জয়গান গেয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম শুধু বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সম্পদ নয়, বরং বিশ্বসভ্যতারও এক অমূল্য সম্পদ। তার যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ ও আন্তর্জাতিকতাবোধ বিশ্বজুড়ে মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ-সংঘাত, উগ্রবাদ ও মানবিক সংকটের সময় রবীন্দ্র-দর্শন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে রবীন্দ্রসংগীত মানুষকে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। বাংলার মানুষের দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ-বেদনা ও জীবনবোধ রবীন্দ্রসাহিত্যে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সঙ্গে ফুটে উঠেছে। তিনি উল্লেখ করেন, কবিগুরুর অমর সৃষ্টি আমার সোনার বাংলা আজ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি–এর জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জনের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বসাহিত্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। তিনিই প্রথম এশীয় হিসেবে এই সম্মান লাভ করেন। তার সাহিত্য ও দর্শনে বহুত্ববাদ, অহিংসা ও বাঙালির মরমি চেতনার এক অসাধারণ সমন্বয় ঘটেছে।
শিক্ষা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের ভাবনার কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিশুসহ নতুন প্রজন্মকে মানবিক ও সৃজনশীল শিক্ষায় গড়ে তুলতে কবিগুরু প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শান্তিনিকেতন। পুথিগত শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষার ওপরও তিনি সমান গুরুত্ব দিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন, শিক্ষার মাধ্যমে বিশ্বের জানালা মানুষের সামনে খুলে দিতে হবে।
শেষে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, রবীন্দ্র-জন্মবার্ষিকীর এবারের আয়োজন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এবং নতুন প্রজন্ম কবিগুরুর সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন থেকে মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা গ্রহণ করবে।

