টানা ৪০ দিন যুদ্ধ চলার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। তবে এর মাঝে আবারও পালটাপালটি হামলা শুরু করেছে দুই দেশ। এতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চরম উত্তেজনার মুখে পড়েছে।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে পালটা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানি সামরিক বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) মার্কিন বাহিনী তাদের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে প্রথম হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
জবাবে আইআরজিসি নৌবাহিনী মার্কিন যুদ্ধজাহাজে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, তারা সফলভাবে এই হামলা প্রতিহত করে ইরানের সামরিক স্থাপনায় পালটা আঘাত হেনেছে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, জাস্ক বন্দরের কাছে তাদের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন বাহিনী প্রথমে হামলা চালায়। এর প্রতিবাদে আইআরজিসি নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার (ইউএসএস ট্রাক্সটন, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা এবং ইউএসএস মেসন) লক্ষ্য করে একাধিক জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ইরানের এই হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে এবং তাদের কোনো যুদ্ধজাহাজের ক্ষতি হয়নি। এর পরপরই ‘আত্মরক্ষামূলক’ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনী ইরানের কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, মিনাব এবং সিরিক শহরের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পালটা বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
ট্রাম্প জানিয়েছে, তারা উত্তেজনা বাড়াতে চায় না, তবে নিজেদের বাহিনীকে রক্ষায় সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে। অন্যদিকে, ইরান এই ঘটনাকে মার্কিন আগ্রাসন হিসেবে দেখছে।
এর আগে ইরান দাবি করেছিল, তাদের হামলায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ওমান উপসাগরের দিকে পালিয়ে গেছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইরানের সেই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিল।

